আল -কুরআন শিক্ষার গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা

 আল -কুরআন শিক্ষার গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা

ড. মাওলানা মো: হাবিবুর রহমান

আল্লাহ তাআলা এই পৃথিবীতে বিশ্ব মানবতাকে সঠিক পথের সন্ধান দেওয়ার জন্য যুগে যুগে অসংখ্য নবী-রাসূল পাঠিয়েছেন। এসকল নবী-রাসূলদেরকে গাইডবুক হিসেবে সহীফা ও কিতাব দিয়েছেন। এসব কিতাব সমূহের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ ও সর্বশেষ কিতাব হচ্ছে আল -কুরআন। পূর্ববর্তী কিতাবসমূহের উপরে ঈমান আনা এবং আল -কুরআনকে মেনে চলা মুসলিমদের উপরে আল্লাহ তাআলা ফরজ করেছেন। আল -কুরআন এসেছে বিশ্ব মানবতাকে হিদায়াতের সঠিক পথের সন্ধান দেওয়ার জন্য। আল্লাহ তাআলা বলেছেন, شَهْرُ رَمَضَانَ الَّذِي أُنْزِلَ فِيهِ الْقُرْآَنُ هُدًى لِلنَّاسِ وَبَيِّنَاتٍ مِنَ الْهُدَى وَالْفُرْقَانِ  “রমযান মাস, যাতে কুরআন নাযিল করা হয়েছে মানুষের জন্য হিদায়াতস্বরূপ এবং হিদায়াতের সুস্পষ্ট নিদর্শনাবলী ও সত্য-মিথ্যার পার্থক্যকারীরূপে।” (সূরা আল-বাকারা-১৮৫) হিদায়াতের এই কিতাব আল -কুরআন শিক্ষা করা প্রত্যেক মুসলমানের উপরে ফরজ করা হয়েছে। নিম্নে আল -কুরআন শিক্ষা করার গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে আলোচনা করা হলোঃ

আল -কুরআন শিক্ষা করা ফরজ:

আল -কুরআনের প্রথম বাণী হচ্ছে, اقْرَأْ بِاسْمِ رَبِّكَ الَّذِي خَلَقَ “পড় তোমার প্রভুর নামে যিনি তোমাকে সৃষ্টি করেছেন।” (সূরা আলাক-১) এখানে ইক্বরা, অর্থ: পড়ো। এ আয়াতের মাধ্যমে প্রত্যেক মুসলিমকে আল্লাহ জানিয়ে দিলেন তোমরা জানার জন্য, বোঝার জন্য এবং সঠিকটা মেনে চলার জন্য পড়া-লেখা করো, অধ্যয়ন করো। অর্থাৎ জ্ঞান অর্জন করা প্রত্যেক মুসলমানদের জন্য আল্লাহ তাআলা ফরজ করে দিয়েছেন। আর এটার বাস্তব নির্দেশ দিয়েছেন রাসূল (সা.)। আল -হাদীসে বর্ণিত হয়েছে,

عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى الله عَليْهِ وسَلَّمَ : طَلَبُ الْعِلْمِ فَرِيضَةٌ عَلَى كُلِّ مُسْلِمٍ


“হযরত আনাস ইবনে মালিক (রা.) হতে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসূল (সা.) বলেছেন, জ্ঞান অর্জন করা প্রত্যেক মুসলমানের উপরে ফরজ।” (সূনান ইবনে মাজা)

জ্ঞান অর্জনের পাশাপাশি আল -কুরআন শিক্ষা করাও প্রত্যেক মুসলমানের উপরে আল্লাহ ফরজ করে দিয়েছেন। রাসূল (সা.) এ সম্পর্কে মুসলমানদেরকে নির্দেশ দিয়ে বলেছেন,


عَنْ أَبِى هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ -صلى الله عليه وسلم تَعَلَّمُوا الْقُرْآنَ وَالْفَرَائِضَ وَعَلِّمُوا النَّاسَ فَإِنِّى مَقْبُوضٌ


“হযরত আবু হুরায়রা (রা.) হতে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসূল (সা.) বলেছেন, তোমরা কুরআন ও ফারায়েজ (উত্তারাধিকার আইন) শিক্ষা করো এবং মানুষদেরকে শিক্ষা দাও কেননা আমাকে উঠিয়ে নেওয়া হবে।” (সূনান আত-তিরমিযি)

তাই আমাদের উপরে কর্তব্য আল -কুরআন ও ইলমে ফারায়েজ (উত্তারাধিকার আইন) শিক্ষা করা এবং এর আলোকে জীবনের প্রতিটা ক্ষেত্র পরিচালনা করা।

কোথা থেকে শিখবো কোরআন?





কোর্সটিতে থাকছে:

- স্বল্প সময়ে শেখার উপায়

-বৈশিষ্ট্য ও ব্যাখ্যার মাধ্যমে হরফ চেনার নিয়ম

-সহজ ভাষায় ব্যাখ্যা

-ভিডিও লেকচার, কুইজ, নোট


আমরা ছোট বেলায় অনেকেই কোরআন পড়তে শিখেছি, কিন্তু বয়সের সাথে সাথে চর্চার অভাবে তা অনেকটাই ভুলে গিয়েছি। আবার অনেকেই  হয়তো ঠিক করে শেখার সময়টা করে উঠতে পারিনি।


কোরআন নাযিলের এই পবিত্র রমজান মাসে, সহীহভাবে অর্থসহ কোরআন শিখতে টেন মিনিট স্কুল নিয়ে এসেছে '২৪ ঘন্টায় কোরআন শিখি' কোর্স।



260 টাকা ছাড়! মাত্র 690 টাকায় ভর্তি হয়ে যান ২৪ ঘণ্টায় কোরআন শিখি - এ। আজই কিনুন - https://10ms.io/oemLUK মেয়াদ 31-07-2022

(((⚠️অবশ্যই এই লিংক টি ব্যবহার করে কোর্সটি কিনবেন⚠️)))



আল -কুরআন শিক্ষা করা সর্বশ্রেষ্ঠ ইবাদত:
আল -কুরআন অধ্যয়ন করা, কুরআন জানা-বুঝার চেষ্টা করা পৃথিবীর সকল কাজের মধ্যে শ্রেষ্ঠ কাজ। কারণ এ কুরআনের মধ্যে রয়েছে মানুষের জীবন পরিচালনা পদ্ধতি, হিদায়াতের সঠিক পথ। প্রত্যেক কাজ শুরু করার সময় রাসূল (সা.) বিসমিল্লাহ পড়ে (আল্লাহর নাম নিয়ে) শুরু করার কথা বলেছেন। কিন্তু কোন কাজ শুরু করার আগে ‘আউযুবিল্লাহি মিনাশ শাইতারিজ রাজীম’ অর্থাৎ শয়তানের কুমন্ত্রনা থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করতে বলেননি। তবে একটি কাজ করার আগে স্বয়ং আল্লাহ তাআলা শয়তানের কুমন্ত্রনা থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করতে বলেছেন, সেটা হলো আল -কুরআন তিলাওয়াত বা অধ্যয়নের সময়। এ সম্পর্কে আল -কুরআনে বর্ণিত হয়েছে,
فَإِذَا قَرَأْتَ الْقُرْآنَ فَاسْتَعِذْ بِاللَّهِ مِنَ الشَّيْطَانِ الرَّجِيمِ
“সুতরাং যখন তুমি কুরআন পড়বে তখন আল্লাহর কাছে বিতাড়িত শয়তান হতে পানাহ চাও।” (সূরা আন-নাহল-৯৮)
আল -কুরআনের এ বক্তব্য থেকে জানা যায়, শয়তান সকল কাজে কুমন্ত্রনা দেয়, তবে কুরআন অধ্যয়নের সময় সবচেয়ে বেশী কুমন্ত্রনা দেয়। কারণ কুরআন যাতে মানুষ বুঝতে না পারে, সেজন্য শয়তান বেশী চেষ্টা করে। মুসলমানরা কুরআন থেকে দূরে সরে থাকলে শয়তান বেশী খুশি হয়। এজন্যই আল্লাহ তাআলা কুরআন অধ্যয়নের সময় শয়তান থেকে আশ্রয় চাওয়ার কথা বলেছেন। এজন্য আমাদের উচিৎ আল -কুরআন জানা ও বোঝার জন্য সবচেয়ে বেশী চেষ্টা করা।




Post a Comment

Previous Post Next Post